Home / সারাদেশ / ধর্মীয় অনুভূতি বাদ দিয়ে লেখালেখির পরামর্শ আইজিপির।

ধর্মীয় অনুভূতি বাদ দিয়ে লেখালেখির পরামর্শ আইজিপির।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, এমন কোনো লেখা ব্লগে লিখবেন না বলে ব্লগারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান একেএম শহীদুল হক। তিনি বলেন, কোনো ধর্মকে কটাক্ষ করে দেশবাসীর মনে আঘাত দেবেন না।

রবিবার বিকালে পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক ব্লগারদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা মুক্ত মনে লেখালেখি করুন। কিন্তু ধর্মকে বাদ দিয়ে লিখুন।’

হত্যাকারীদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘কেউ যদি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, তাহলে তার নামে মামলা করুন। প্রচলিত আইনে তাদের শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু তা না করে ব্লগারদের হত্যা করা আইনে নেই, এমনকি ইসলামেও নেই।’

সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর শিশু ও ব্লগার হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন আইজিপি।

আইজিপি বলেন, সম্প্রতি ব্লগার নিলয়সহ অন্যান্য হত্যাকা-ের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়েছে। আইজিপি ব্লগার ও মুক্তমনা লেখকদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশি¬ষ্ট সকল ইউনিটকে নির্দেশ দেন। তিনি ব্লগারদের সম্পর্কে ইন্টেলিজেন্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও বাড়িয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সিলেটের সামিউল আলম রাজন, খুলনার রাকিব, বরগুনার রবিউল ইসলাম, চাঁদপুরের সুমাইয়া আক্তারসহ চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলা এবং ঢাকার সুখী বেগমের চোখ উৎপাটন মামলাসহ অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মামলার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। সামিউল হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। এ মামলার মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি কামরুলকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। রাকিব হত্যা মামলার তদন্তে প্রকাশিত তিনজন আসামির মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিউল ইসলাম হত্যা মামলার একজন আসামির মধ্যে এক জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সুমাইয়া হত্যা মামলার দুই জন আসামির মধ্যে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইজিপি সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে মামলাসমূহের চার্জশিট দেয়া হবে বলেও জানান।

আইজিপি বলেন, শিশু হত্যা এবং শিশু নির্যাতন কোনভাবেই কাম্য নয়। শিশু হত্যা ও নির্যাতন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে সকল ইউনিটকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। তিনি শিশু নির্যাতন ও হত্যা প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেসুর রহমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিআইজি (অপারেশন) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) হেলাল উদ্দিন বদরীসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

About admin

Check Also

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আসুন: প্রধানমন্ত্রী

গণভবনে বুধবার এক অনুষ্ঠানে বিএবির সদস্য ৩২টি ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে কম্বল হস্তান্তর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Powered by themekiller.com